PathokBarta Logo
Feature Image

“হাঁসের মাংস: স্বাদ, ঐতিহ্য আর রান্নার কৌশল”

বাংলাদেশের রান্নার জগতে হাঁসের মাংসের আলাদা মর্যাদা আছে। গ্রামীণ ভোজ হোক বা শহুরে উৎসব—হাঁসের মাংস সবসময়ই এক বিশেষ আকর্ষণ। শীতে হাঁস খাওয়ার প্রচলন বেশি, কারণ এই সময় হাঁসের মাংস সুস্বাদু ও কম তেলতেলে হয়।

হাঁসের মাংস গরু বা মুরগির তুলনায় ঘন এবং সুগন্ধি। এতে প্রাকৃতিক তেল বেশি থাকায় রান্নায় বাড়তি তেলের প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে নদী বা পুকুরে চরে বেড়ানো হাঁসের মাংসের স্বাদ তুলনাহীন।

জনপ্রিয় রান্নার ধরন

বাংলাদেশে হাঁসের মাংস রান্নার নানা ধরন আছে। কারও প্রিয় ঝোল, কারও আবার ভুনা। নারকেল দুধ দিয়ে মিষ্টি-ঝাল হাঁস রান্না বরিশাল অঞ্চলে বিখ্যাত। উত্তরবঙ্গে আলু-সহ ঝোল জনপ্রিয়।

হাঁসের মাংসের ঝোল রেসিপি

উপকরণ:
হাঁসের মাংস ১ কেজি, আলু ৩টি, পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, শুকনা মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, গরম মসলা গুঁড়া ½ চা চামচ, তেল ½ কাপ, লবণ ও কাঁচা মরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী:
১. কড়াইতে তেল গরম করে তেজপাতা ও গোটা গরম মসলা ভেজে নিন।
২. পেঁয়াজ বাদামি হলে আদা-রসুন ও শুকনা মসলা দিয়ে ভালো করে কষান।
৩. হাঁসের মাংস দিয়ে মাঝারি আঁচে ১৫–২০ মিনিট কষান।
৪. আলু দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে প্রয়োজনমতো গরম পানি দিন।
৫. ঢেকে ৩০–৪০ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ মাংস নরম হয়।
৬. শেষে গরম মসলা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ভাত, পোলাও বা লুচির সাথে গরম গরম হাঁসের মাংস পরিবেশন করলে স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়। শীতে পান্তা ভাতের সাথেও অনেকের কাছে এটি প্রিয়। রান্নার সময় মসলা কষানোতেই আসল স্বাদ নির্ভর করে, তাই তাড়াহুড়া না করাই ভালো।

হাঁসের মাংস শুধু খাবার নয়—এটি আমাদের রান্না সংস্কৃতির অংশ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে হাঁসের মাংস রান্না ও খাওয়া যেন উৎসবের মতোই আনন্দ দেয়।

তারিখ: 15 Aug 2025 | সময়: 00:39