লবণাক্ততা ঠেকাতে উপকূলের গ্রামে ফিরছে পুরোনো ধানের জাত
স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ করে নতুন আশা দেখাচ্ছেন সাতক্ষীরার একদল কৃষক।
- পুরোনো লবণসহিষ্ণু ধানের জাত ফিরিয়ে আনছেন উপকূলের কৃষকেরা
- গ্রামভিত্তিক বীজব্যাংকে চলছে সংরক্ষণ ও বিনিময়
- পাশের গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে উদ্যোগ
ভোরের আলো ফুটতেই খেতের আল ধরে হাঁটতে শুরু করেন আমেনা খাতুন। পাঁচ বছর আগেও এই জমিতে ধান হতো না, নোনাপানি ঢুকে সব নষ্ট করে দিত। এখন সেই জমিতেই দুলছে সোনালি শিষ।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো জাতের বীজ ফিরিয়ে এনেছেন এলাকার একদল কৃষক। লবণসহিষ্ণু এই জাতগুলো একসময় হারিয়ে যেতে বসেছিল।
আরও পড়ুনসুন্দরবনের মৌয়ালদের নতুন জীবিকা“বাপ-দাদার বীজই আমাদের বাঁচিয়ে দিল। মাটি যা চায়, তা-ই ফিরিয়ে দিয়েছি।”— আমেনা খাতুন, কৃষক
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় জাত ও আধুনিক চাষপদ্ধতির মিশেলে উপকূলের অনেক পতিত জমি আবার চাষের আওতায় আনা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন বীজ সংরক্ষণের সুসংগঠিত ব্যবস্থা।
বীজব্যাংক: গ্রামের নিজস্ব ভান্ডার
গ্রামের এক কোণে মাটির ঘরে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট একটি বীজব্যাংক। প্রতিটি মাটির পাত্রে লেবেল লাগানো, তাতে লেখা জাতের নাম আর সংগ্রহের তারিখ।
কৃষকেরা মৌসুম শেষে ধার নেওয়া বীজের দ্বিগুণ ফেরত দেন। এভাবে প্রতিবছর ভান্ডার বড় হচ্ছে, পাশের গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে উদ্যোগটি।